যদি একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, আপনার পাশে থাকা ব্যক্তিটি আপনার স্বপ্নের পুরুষ বা নারী হয়ে গেছে, তবে কেমন হবে বলুন তো ? একবার শুধুমাত্র কল্পনা করুন।
স্বীকার করেন আর নাই করেন, বেশিরভাগ মানুষ এই দিনটার অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকে! অর্থাৎ আমরা অনেকেই ঘর করি একজনের সাথে, কিন্তু স্বপ্ন দেখি সবসময় আরেকজন মানুষের! কি বিশ্বাস হচ্ছে না?
গবেষণা বলে, দাম্পত্য কলহের মূলে আছে আমাদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াগুলো অপূরণ, অর্থাৎ দাম্পত্য কলহের জন্য যতখানি না দম্পতি মাঝের অমিল দায়ী তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী ব্যক্তিগত পছন্দের অমিল, চাওয়ার অমিল, ব্যবহারের অমিল এবং গলার স্বরের ভিন্নতা।
একটু ব্যাখ্যা করে যদি আমাদের নিজের জীবনের সাথে মিলাতে চাই তবে, চিন্তা করে দেখুন আপনাদের শেষ ঝগড়াটা কেন হয়েছিল? বেশিরভাগ সময় দেখবেন, আপনাদের বেশিরভাগ ঝগড়ার কারণ হল আপনি এমন কিছু চেয়েছিলেন, যা উনার পক্ষে সম্ভব না আপনি জানেন! অথবা উনি এমন কিছু চেয়েছিলেন, যা আসলে আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে যায় না!
বয়সে বড় একটি মানুষের কাছ থেকে আপনি আশা করতে পারেন না যে তার চাহিদাগুলো বাচ্চাদের মত হবে! ঠিক তেমনি দম্পতির একজন যদি বয়সে অনেক ছোট হয়,তবে তার থেকেও এটা আশা করা যায় না যে সে অন্য জনের মত সবকিছু বুঝবে! পাখির কাছ থেকে সাঁতার কাঁটার চাহিদাই কি বোকামি হয়ে যায় না?
দাম্পত্য কলহের আরেকটি বড় কারণ হলো নিজের ইচ্ছা অন্যজনের উপর চাপিয়ে দেয়া। ধরুন আপনি একজন শিক্ষিত নারীকে বিয়ে করেছেন, বিয়ের আগেই জানতেন সে চাকরি করতে ইচ্ছুক। কিন্তু বিয়ের পরে আপনার মনে হলো, যদি সে চাকরি না করলে বাসায় থাকে তবে আপনার জন্য ভালো হয়। আপনি আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছাটা ওনাকে জানাতে পারেন, কিন্তু অবশ্যই চাপিয়ে দিতে পারেন না! একইভাবে বিয়ের পর আপনার কাছে মনে হল আপনার স্বামীর কাপড়-চোপড়, পোশাক-আশাক, চালচলন ভালো না, আপনিও তাকে জানাতে পারেন, কিন্তু আপনার ইচ্ছায় চলতে বাধ্য করতে পারেন না!
পার্টনারের স্বভাব এবং তার সম্বন্ধে বাস্তব ধারণা না থাকার কারণে, দাম্পত্যে জায়গা করে নেয় পরকীয়া, পর্ণগ্রফি অ্যাডিকশনের মত সমস্যাগুলো।একজন নারী বা পুরুষ যখন তার পার্টনারকে সম্পূর্ণ খাপে খাপে স্বপ্নের সাথে মিলাতে চাইবে, যা বাস্তবিক ভাবে কখনোই সম্ভব নয়, তখনই তৈরি হয় সমস্যা, যেখানে ঢুকতে পারে যেকোনো তৃতীয় ব্যক্তি! অপরদিকে, যখন একজন পর্নোগ্রাফিক অ্যাডিক্ট তার দেখা ছবির সাথে তার ঘরের মানুষটাকে মেলাতে চায়, তা কখনোই কেন জানি হয়ে ওঠে না, আর রূপ নেয় হতাশা,বিবাদ এবং ডিভোর্সে। সব কিছুর সমাধান তখনই সম্ভব, যখন আপনার মস্তিষ্কের দৃশ্যপটে অন্তত বাস্তবের কিছু ধারনা থাকবে!
সমাজ আমাদেরকে দাম্পত্য সম্বন্ধে একটি ভুল রূপরেখা দিয়েছে, সেটি হল স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝখানে কোন বাউন্ডারি নেই। একটি সম্পর্ক কখনোই লিমিটলেস বা সীমাহীন হতে পারে না! এই ধারণার কারণেই চিন্তা তৈরি হয় যে, আমি আমার পার্টনারের সাথে যা খুশি তা করতে পারব, যা খুশি তা বলতে পারব, এবং সেভাবেই চলবে যেভাবে আমি চাই! কিন্তু প্রতিটা মানুষের নিজস্ব সত্তা আছে এবং সে তার সত্তা আপনার জন্য বিলিয়ে দিবে- এমন আশা করাটা অপরাধ!
বিবাহিত জীবনে সুখী হওয়ার জন্য বেশি কিছু লাগে না সত্যি, কিন্তু অসুখী হওয়ার জন্যও বেশি কিছু লাগে না! একে অপরের মতামতের সম্মান করা এবং নিজের পার্টনারকে সে যেমন সেভাবেই মেনে নেয়া- আপনার দাম্পত্যজীবনকে করতে পারে মধুর!
এজন্যই বোধহয় বলা হয়, ভালবাসা অর্জন করার চেয়েও রক্ষা করা কঠিন !
উল্লেখিত কথাগুলো আমি লাইফস্পিং থেখে শুনেছিলাম আসলেও অনেক সত্য বিষয়টা। সত্যিই ভালোবাসা অর্জন করার চাইতে তা রক্ষা করা অনেকটা কঠিন।